Admission Going On. For any Query Please Contact: +8801313 400 600, +8801313037070, +8801313037071, +8801313037078

দক্ষ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার গড়ে তুলছে আইএসইউ

...

দেশের গার্মেন্টস-শিল্প এখন দ্রুত এগিয়ে চলেছে। সেই পথে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের সামনে খুলে যাচ্ছে উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের দরজা। চাকরির বাজারে যেসব বিষয়ের গ্র্যাজুয়েটদের চাহিদা তুলনামূলক বেশি, সেগুলোর শীর্ষে আছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং। কারখানার টেকনিক্যাল ও ম্যানেজারিয়াল পদ, বায়িং ও মার্চেন্ডাইজিং, এমনকি শিক্ষকতায়ও এই প্রকৌশলীদের চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। এর মধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এই বিভাগে বাড়তি নজর দিচ্ছে। তাদের একটি ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি (আইএসইউ)।

দেশের শীর্ষস্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ অনুযায়ী ২০১৮ সালের ৩ জুন এর যাত্রা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল খান।

পড়াশোনা শেষে কর্মক্ষেত্র
এই বিভাগের গ্র্যাজুয়েটরা কাজ করতে পারছেন স্পিনিং মিল, উইভিং ফ্যাক্টরি, ডাইং-প্রিন্টিং ও ফিনিশিং মিল, গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি, কম্পোজিট মিল, ডেনিম প্রজেক্ট, ওয়াশিং প্ল্যান্ট ও বায়িং হাউসে। মার্চেন্ডাইজিংসহ বেসরকারি খাতের নানা ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য সুযোগ আছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক ও কলেজে শিক্ষকতার পথও খোলা।

উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল খান বলেন, ‘শিক্ষাজীবন শেষে চাকরি পাওয়া প্রতিটি পরিবারের অপরিহার্য চাওয়া। কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগও দরকার। স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ উচ্চশিক্ষার সঙ্গে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগও করে দিচ্ছে।’

প্রতিষ্ঠাতাদের ১৯টি টেক্সটাইল শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পান। ৩০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে আছে ইন্টার্ন ও চাকরির ব্যবস্থা।

শ্রেণিকক্ষ থেকে কারখানায়
বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কাসেম বলেন, ‘টেক্সটাইল-শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। দক্ষ জনবল গড়তে আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণার বিকল্প নেই। আমরা শিল্পের চাহিদা মেনে পাঠক্রম সাজিয়েছি, আছে আধুনিক ল্যাবরেটরি ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ।’

অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কাসেমের মতে, অন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আইএসইউর পার্থক্য এখানেই। স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন করছেন। এভাবে গড়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পের মেলবন্ধন।

লক্ষ্য একটাই। এমন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা, যাঁরা দেশে ও বিদেশে টেক্সটাইল খাতে নেতৃত্ব দেবেন এবং অর্থনীতিতে রাখবেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তিনি বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়, ব্যবহারিক দক্ষতাও জরুরি। আইএসইউর শিক্ষার্থীরা একদিন ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার পথে ভূমিকা রাখবেন বলে তাঁর আশা।

শিক্ষার্থীর চোখে
বিভাগের শিক্ষার্থী আফসানা আক্তার মিম বলেন, ‘চমৎকার পড়াশোনার পরিবেশ, সুদক্ষ শিক্ষক, আধুনিক ল্যাব আর সমৃদ্ধ লাইব্রেরির অপূর্ব সমাবেশ আমাদের এই বিভাগ। প্রতি সেমিস্টারেই নামকরা টেক্সটাইল ফ্যাক্টরিতে ভিজিটের ব্যবস্থা থাকে। নিয়মিত সেমিনার এবং ওয়ার্কশপে আসেন শিল্পের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তাঁদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা শুনে আমরা যেমন তাত্ত্বিকভাবে মজবুত হচ্ছি, তেমনি জানতে পারছি শিল্পের বর্তমান অবস্থা ও বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা বিষয়ে।’

মহাখালীর ক্যাম্পাসে
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাখালীর ক্যাম্পাসটি পুরোপুরি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। আছে সিসিটিভি, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরসহ ক্লাসরুম ও ওয়াই-ফাই। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত লাইব্রেরিতে আছে প্রচুর বই, ই-বুক ও প্রয়োজনীয় জার্নাল। পর্যাপ্ত আসন আর ডিজিটাল সুবিধায় পড়াশোনার পরিবেশ শিক্ষার্থীবান্ধব।

ইউজিসির নির্দেশিকা অনুযায়ী ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা বা ওবিই পাঠ্যক্রম পরিচালনা করছেন দেশ-বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী অভিজ্ঞ শিক্ষকেরা। তাঁদের মধ্যে আছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ইউজিসির সাবেক সদস্য অধ্যাপক মনজুর মোরশেদ মাহমুদ এবং বুটেক্সের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কাসেম।

মেধা, যোগ্যতা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে ১৪ ধরনের স্কলারশিপ ও টিউশন ফি ওয়েভার দেওয়া হয়। শৃঙ্খলার ব্যাপারে কঠোর নজরদারি আছে, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা হয়েছে মেয়েদের জন্য। ছেলে ও মেয়েদের জন্য রয়েছে আলাদা হোস্টেল।

আজকের পত্রিকা